ইদানীং অনেকেরই ফেসবুক আইডি হ্যাক হবার কথা শুনতে পারছি কিংবা আইডি লক হয়ে আর লগইন করতে পারছে না। অথছ কয়েকটা ব্যাপার খেয়াল রাখলে আইডি হ্যাক কিংবা লক হওয়া থেকে বাঁচা যায় বা হয়ে গেলেও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু নিজের ভুলে কিংবা অজান্তে না জানার কারনে আইডি অনেকসময় ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সারাক্ষন ফেসবুকের ইনবক্সে সময় না দিয়ে নিজের প্রিয় আইডিটা বাঁচাতে চাইলে একটু সময় নিয়ে সেটিংসটা খেয়াল করলে কখনই আইডি হারানোর ভয় নেই। যাইহোক, আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক...
১। Two-Factor Authentication: সেটিংসের সিকিউরিটি পেজে গেলে এই অপশন পাবেন। আপনার আইডির প্রতি যদি একটু হলেও কোন দয়ামায়া থাকে তবে এই অপশন এখুনি অন করে রাখুন। অন করার পর আরও দুটি অপশন পাবেন -
i) Added security:
আমি বারবার সবাইকে বলি ফোন নাম্বার দিয়ে আইডি না খোলার জন্য। আজ পর্যন্ত যত আইডি লক হয়েছে বেশিরভাগ ই ফোন নাম্বার দিয়ে খোলা। ফেসবুক আইডি খুললে মেইল দিয়ে খুলবেন। আবার অনেক সময় মেইল দিয়ে খুললেও মেইলও এক্সেস করতে পারেনা সেই সমস্যার সমাধানও আজ শেষের দিকে নিচে সব বলছি পয়েন্ট আকারে -
যা অবশ্যই করনীয়ঃ
১। নতুন ফেসবুক আইডি খুললে অবশ্যই মেইল (জিমেইল, ইয়াহু) দিয়ে খুলবেন তবে আমি বলবো জিমেইল দিয়েই খুলার।
যা অবশ্যই করনীয়ঃ
১। নতুন ফেসবুক আইডি খুললে অবশ্যই মেইল (জিমেইল, ইয়াহু) দিয়ে খুলবেন তবে আমি বলবো জিমেইল দিয়েই খুলার।
২। যদি ফোন নাম্বার দিয়ে খুলা থাকে এবং কোন মেইল এড করা না থাকে একাউন্টে তাহলে আজ ই সেটিংসে যেয়ে মেইল এড করে ভেরিফাই করে রাখুন।
৩। মেইল একের অধিক তথা দুই বা ততোধিক দেওয়া যায় তাই চেষ্টা করবেন দুইটা মেইল দেওয়ার, প্রথম মেইল প্রাইমারি মেইল হিসেবে থাকবে।
৪। আর যদি শুধু মেইল দিয়ে খোলা থাকে তাহলে সাথে আবার অবশ্যই ফোন নাম্বার এড করে রাখুন, আর ফোন নাম্বারটা অবশ্যই যেন নিজের নাম্বার দেওয়া থাকে যা নিজের এনআইডি দিয়ে খোলা।
৫। কখনই ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আর মেইলের পাসওয়ার্ড একই রাখবেন না।
৬। ফেসবুকে দেওয়া জিমেইল অবশ্যই হাইড করে রাখুন আলাদা সেফটির জন্য।
৭। পাসওয়ার্ড কমপক্ষে ১২/১৫ সংখ্যার উপর রাখুন আর কখনই ফোন নাম্বার কিংবা নিজের নাম দিবেন না পাসওয়ার্ডে।
৮। আরেকটা ব্যাপার অনেকেই জানে না যে ফেসবুকে username বলে একটা অপশন আছে সেখানে আপনার পছন্দমত username দেওয়া যায় অর্থাৎ এটা আপনার আইডির url হিসেবে কাজ করে। এটা কাজের মনে না হলেও বিপদে এটাও অনেক কাজে দেয়।
সিকিউরিটিঃ
সিকিউরিটি পেজে গেলেই অনেক অপশন পাবেন, ফেসবুক নিজ থেকেই আপনাকে এসব সিকিউরিটি প্রদান করে তাই এসব ঠিক করে রাখুন। এসব কিভাবে কাজ করে এসব বিস্তারিত বলতে গেলে ব্লগ বিশাল বড় হয়ে যাবে তাই এই নিয়ে আমার আগের একটা লেখা পড়তে পারেন, এইখানে ক্লিক করুন
১। Two-Factor Authentication: সেটিংসের সিকিউরিটি পেজে গেলে এই অপশন পাবেন। আপনার আইডির প্রতি যদি একটু হলেও কোন দয়ামায়া থাকে তবে এই অপশন এখুনি অন করে রাখুন। অন করার পর আরও দুটি অপশন পাবেন -
i) Added security:
'Authentication app' চালু করার জন্য Add a new app ওপেন করে গুগল প্লে স্টোরে যেয়ে Google Authenticator লিখে সার্চ দিন। এইবার ইন্সটল দিয়ে ওপেন করে (+) এ টাচ করলে বারকোড স্ক্যান করুন কিংবা চাইলে কী গুলা লিখে কানেক্ট করুন। এইবার অন্য কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে ফেললেও কারো বাপের সাধ্য নাই ফেসবুক আইডি হ্যাক করার।
'Recovery codes' অপশনে গেলে দশটা কোড পাবেন। এগুলা আলাদা করে সংরক্ষনে রাখুন কারন ধরেন কোন কারনবশত আপনার ফোন আপনার সাথে নেই তখন জরুরি মুহূর্তে অন্যের ফোন দিয়ে লগইন করলে এই কোড ছাড়া লগইন করতে পারবেন না।
ii) Add a backup:
'Text message' অবশ্যই নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে রাখুন, ব্যাকআপ হিসেবে লগইন করার জন্য।
'Security key' এই অপশন ইউজ করা হয় নাই আমার, তাই এটা নিয়ে কিছু বলছি না। উপরের সব কিছু করে থাকলে এই অপশন ইউজ করা লাগবে না।
২। Setting Up Extra Security: এই অপশনটা অতীব জরুরী। দেখেন এখানে লেখাই আছে 'Choose 3 to 5 friends to contact if you are locked out' তাই বিস্তারিত বলছি না। নিজের একদম খুব কাছের বিশ্বস্ত ৩ থেকে ৫ জনের আইডি এড করে রাখুন। ভয় নেই তারা আপনার আইডি লগইন করতে পারবে না, যদি কখনও আইডি লক হয়ে যায় তখন তাদের মাধ্যমে আইডি ফিরে পেতে পারেন।
এইবার আসা যাক মেইল নিয়ে কিছু কথাঃ
আপনার আইডির নিরাপত্তা কিন্তু মেইলের উপরও প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে তাই আমরা যে ভুল করে থাকি শুধু ফেসবুকের নিরাপত্তা বাড়িয়েই সরে যাই অথছ নিজের মেইল আইডি সুরক্ষিত না রেখে। তাই ফেসবুকের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজের মেইলের নিরাপত্তাও জরুরী। যেহেতু আমি জিমেইল ইউজার তাই জিমেইল নিয়েই বলছি আর জিমেইলের সিকিউরিটি আর উপরে দেওয়া ফেসবুকের সিকিউরিটির অপশনে অনেকটা মিল আছে তাই সংক্ষেপে বলছি -
১। জিমেইলে লগইন করে সিকিউরিটি পেইজে চলে যান।
২। প্রথমেই বলবো strong একটা পাসওয়ার্ড দিন।
৩। আগের মতই '2-Step Verification' চালু করুন অবশ্যই।
৪। এক বা একের অধিক ফোন নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করুন।
৫। ব্যাকআপ কোডগুলা আলাদা সেইফ জায়গায় রাখুন।
৬। আর হ্যাঁ অবশ্যই Recovery phone, email অপশনে ফোন এবং আলাদা যে কোন মেইল এড করে রাখুন।
- যতটুকু পারি আমি বলার চেষ্টা করেছি তবুও কারো কিছু জানার থাকলে বা বুঝতে প্রভলেম হলে কমেন্ট করুন যথাসাধ্য চেষ্টা করবো হেল্প করতে। সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
