বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে ইন্টারনেট এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। বাসাবাড়ি হোক বা অফিস বা রেস্টুরেন্ট বা শপিং মল সব ক্ষেত্রেই এখন অতি জরুরি বিষয় ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেট ব্যাবহারে বহু মানুষ এখন ব্রডব্যান্ড কানেকশন ইউজ করে থাকে। আর এই ব্রডব্যান্ড কানেকশন ইউজে ওয়াইফাই বা রাউটার বেশ পরিচিত নাম। রাউটারের মাধ্যমেই আমার মোবাইল ফোন / ল্যাপটপে সহজেই ওয়্যারলেস তথা তারবিহীন ইন্টারনেট ইউজ করি। তাই দিন দিন এখন ওয়াইফাই রাউটার বসানোর চাহিদাও বাড়ছে। ওয়াইফাই রাউটারের সবচেয়ে বড় সুবিধে হচ্ছে একাধিক ডিভাইস এক সঙ্গে কানেক্ট করা যায়, পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় ঘরের যে কোনো প্রান্তে বসে। কিন্তু ঘরের যে কোনো প্রান্তে বসে ইউজ করলেই স্পিড সবসময়ই সমান পাওয়া যায় না নিজেদের অজান্তে কিছু ভুলের কারনে।
| img src: www.google.com/imghp |
তবে সহজেই ওয়াই-ফাই স্পিড কিছুটা বাড়িয়ে নেয়া যায় যে ৫টি বিষয় মাথায় রাখলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৫টি বিষয় -
১. রাউটার বাসা বাড়ির মাঝে রাখুন:
সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত জানালার পাশে ঘরের এক কোণে রাউটার রেখে দেয়া। কারন অনেকসময় কানেকশন নেয়ার সময় তারের পরিমাণ কম রাখার জন্য বা কম থাকে তখন এই ভুল কাজটি করে থাকি। ওয়াই-ফাই কানেকশনের সবচেয়ে ভালো কাভারেজ পেতে রাউটারকে বাসাবাড়ি ঘড়ের মাঝখানে এমন স্থান নির্বাচন করে সেখানে রাউটার রাখুন। কারন মনে রাখবেন, পুরো বাসার এক সাইডে কর্নারে বা জানালার কাছে রাখলে স্পিড এমনিতেই কম পাবেন কারন তখন অর্ধেক সিগনাল বাসা বাড়ির বাইরে চলে যাচ্ছে।
২. রাউটার চোখের উচ্চতায় রাখুন:
রাউটারের সবচেয়ে ভালো কাভারেজ বা সিগনাল পেতে সবচেয়ে ভালো হয় মাটি বা মেঝে থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় বসালে রাখলে। অর্থাৎ রাউটারটি নিজের চোখের উচ্চতার সমান থাকে এমন জায়গায় রাখুন। কারন এতে রাউটারের সিগনাল সবদিকে তথা চতুর্দিকে সমানভাবে ছড়িয়ে যায় ফলে ভালো কভারেজ পাওয়া যায়। তাছাড়া ব্যঘাত ঘটাতে পারে তরঙ্গ সৃষ্টি করে এমন কোনও ডিভাইসের সঙ্গে রাউটার রাখবেন না। যেমন, অন্য কোনও রাউটার বা প্রিন্টার বা মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি।
৩. কম ডিভাইস কানেক্ট করুন:
স্পিড বহুকাংশে কানেক্টেড ডিভাইসের উপর নির্ভর করে। যত বেশি ডিভাইস ৎ স্পিড কম পাবেন কারন স্পিড তখন প্রতি ডিভাইসে ভাগ হয়ে যায়। ধরুন আপনি ১০ এমবিপিএসের লাইন ইউজ করছেন, আর আপনি একাই ইউজ করেছেন এক ডিভাইসে তাহলে পুরো স্পিড আপনি একাই পাবেন কিন্তু যদি দুজন ইউজ করেন তথা ডিভাইস সংখ্যা দুই হলে তখন স্পিডও ভাগ হবে। মনে রাখবেন এক সঙ্গে যত বেশি ডিভাইস কানেক্ট থাকবে বা কানেক্ট করলে ওয়াই-ফাই স্পিডও তত কমে যাবে।
৪. রিপিটার কানেক্ট করে কভারেজ বৃদ্ধি:
এখন আইটি বাজারে বা টেক রিলেটেড অনলাইন শপ সাইটে ভালো ব্র্যান্ডের ভালো মানের রিপিটার পেয়ে যাবেন। রিপিটারের কাজ হচ্ছে রাউটারের কাভারেজ এড়িয়া বাড়িয়ে দেওয়া তথা আপনার ওয়াইফাই স্পিড বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দেয় রিপিটার। দাম মোটামুটি যা ১ হাজার টাকা থেকে শুরু আর সেটার কনফিগার করাও খুব সহজ কিন্তু সেটিং পেজে গিয়ে কনফিগার করতে হবে। কনফিগার করার উপায় ইউটিউবে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। এছাড়া রিপিটার হিসাবে এক্সট্রা বা পুরনো ভালো রাউটার থাকলে সেটাকেও রিপিটার বানিয়ে ব্যবহার করা যায়।
৫. USB রাউটার ব্যবহার করুন:
রাউটার কেনার সময় আগে দেখে চেক করে নিন এতে USB পোর্ট আছে কিনা। কারণ অন্যান্য রাউটারের চেয়ে USB পোর্ট যুক্ত রাউটারে এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ কানেক্ট করতে পারবেন যা নেটওয়ার্ক স্টোরেজের মতো কাজ করে সমস্ত কানেক্টেড ডিভাইসে। প্রিন্টারও কানেক্ট করতে পারেন। এতে কোনও একটি ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। নেটওয়ার্কে থাকা যে কোনো ডিভাইস থেকে প্রিন্ট দেয়া যাবে। সাধারণত দেখা যায়, এ ধরনের রাউটার বেশ শক্তিশালী হয়। তাতে সিগনালও বেশ ভালো পাওয়া যায়।
এছাড়া বর্তমানে বাজারে পাওয়া প্রায় সব রাউটারে অপশন রয়েছে স্পিড লিমিট অথবা ডিভাইস ব্লক করার। রাউটারের সেটিং পেজে যেয়ে যদি দেখেন কোন এক বা একাধিক নির্দিষ্ট ডিভাইস অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ টেনে নিচ্ছে, সেই ডিভাইসের স্পিড কমিয়ে দিন রাউটার থেকে; শুধু ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে বলুন তবুও যদি কেউ কিছু ডাউনলোড করতে চায় তবে তাকে অপেক্ষা করতে বলুন বা নিষেধ করুন নতুবা চাইলে আপনি সরাসরি ব্লক করুন।