ঢাকার খুব কাছেই হাওড় সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ জেলা। চাইলে একদিনের ট্যুরে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার হাওড় দেশ বলে খ্যাত কিশোরগঞ্জ জেলা। আপনি যদি হাওড় বিলাসী হোন তবে কিশোরগঞ্জের হাওড় ট্যুর আপনার জন্য।
#কিভাবে_যাবেনঃ ঢাকা থেকে রেলপথে আর সড়কপথে কিশোরগঞ্জ যাওয়া যায়। তবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বলে মনে করি যাবার সময় রেলপথ বেস্ট এতে সময়ও অনেক বাঁচে। যেহেতু একদিনের ট্যুর সেহেতু সময়ের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
রেলপথ - ট্রেনে যেতে হলে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাবার জন্য দুটো ট্রেন আছে। 'এগারোসিন্ধুর প্রভাতী' ট্রেন ঢাকার কমলাপুর থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল ৭:২০ এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস সকাল ১০:২০ কিন্তু যেহেতু একদিনের ট্যুর সেহেতু এগারোসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন যা সকাল ৭ঃ২০ এ ছাড়ে সে ট্রেনেই যাত্রা করতে হবে। টিকেট শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা, শোভন ১২০ টাকা, প্রথম শ্রেনী ২০০ টাকা। ট্রেনে যাবার প্ল্যান থাকলে ৫/৭ দিন আগে থেকেই টিকেট কেটে নিবেন।
সড়কপথ - বাসে যেতে হলে মহাখালী/বনানী/এয়ারপোর্ট/গাজীপুর চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড হতে 'অনন্যা পরিবহনে' চার ঘন্টায় চলে যেতে পারবেন, বাস ভাড়া ২২০টাকা। এছাড়া ঢাকার সায়দাবাদ/গোলাপবাগ থেকে 'অনন্যা সুপার অথবা যাতায়াত' বাসে করে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে বাসে আসতে চাইলে সকাল ৬ঃ৩০টার ভেতর বাসে রওনা দেবার চেষ্টা করবেন।
#প্ল্যানঃ প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি নিকলী ঘুরবেন নাকি বালিখলা/মিঠামইন ঘুরবেন।
নিকলী যেতে চাইলেঃ যদি আপনি নিকলী ঘুরতে চান তাহলে ট্রেনে আসলে কিশোরগঞ্জের গচিহাটা অথবা কিশোরগঞ্জ সদর স্টেশনে নেমে পরবেন। আমি বলবো গচিহাটায় নেমে পরতে তাতে সময় কিছুটা বাঁচবে। গচিহাটা থেকে সিএনজি/অটো করে সোজা চলে যান নিকলী, ভাড়া জনপ্রতি ৩০/৪০ টাকা। কিশোরগঞ্জ সদর স্টেশনে নামলে স্টেশনের একটু সামনে থেকেই নিকলী যাবার সিএনজি পাওয়া যায়, ভাড়া জনপ্রতি ৭০ টাকা।
আর বাসে আসলে আপনাকে শেষ স্টপেজ গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে আসতে হবে সেখান থেকে অটো করে কিশোরগঞ্জ স্টেশন আসবেন, জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা। স্টেশনের একটু সামনে থেকেই নিকলী যাবার সিএনজি পাওয়া যায়, ভাড়া ৭০ টাকা।
নিকলী যেয়ে একটু দরদাম করে ট্রলার রিজার্ভ করে ঘুরে আসতে পারেন, ঘুরে আসলে দারুন উপভোগ করতে পারবেন হাওড়ের বিশাল সৌন্দর্য, বিশেষ করে ছাতিরচর যাবেন সেখানে অনেকটা সিলেটের রাতারগুল ফ্লেভার পাবেন কিছুটা। আর সাথে এক্সট্রা কাপড় চোপড় নিয়ে যাবেন তাহলে হাওড়ের পানিতে নেমে গোসলও করে ফেলতে পারবেন।
#খাওয়া_দাওয়াঃ যদি নিকলী যান তাহলে সিএনজি থেকে নামার পর নিকলীতেই মোটামুটি ভালো মানের খাবার হোটেল আছে সেখান থেকে জনপ্রতি ১৬০/২০০ টাকার ভেতর ভরপেট খাবার খেতে পারবেন।
বালিখলা / মিঠামইন যেতে চাইলেঃ ট্রেনে আসলে শেষ স্টপেজ কিশোরগঞ্জ সদর স্টেশনে নেমে পরবেন। সেখান থেকে অটো করে একরামপুর চলে যাবেন, ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি করে সোজা বালিখলা, ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা।
বালিখলা যেয়ে একটু দরদাম করে ট্রলার রিজার্ভ করে ঘুরে আসতে পারেন বালিখলার আশপাশ বিশেষ করে হাসানপুর ব্রিজ। এছাড়া হাতে সময় থাকলে এবং ট্রলার রিজার্ভে বাজেট বাড়ালে সাথে মিঠামইন উপজেলা ঘুরে আসুন। রাষ্ট্রপতির এলাকা বলে কথা, ঘুরে আসলে দারুন উপভোগ করতে পারবেন হাওড়ের বিশাল সৌন্দর্য। হাওড়ের চড়েও নামতে পারেন, সাথে এক্সট্রা কাপড় চোপড় নিয়ে যাবেন তাহলে হাওড়ের পানিতে গোসলও করে ফেলতে পারবেন।
#খাওয়া_দাওয়াঃ আর বালিখলা/মিঠামইন যাবার আগে আমার মতে কিশোরগঞ্জ সদর থেকেই একদম ভরপেট খেয়ে যাওয়া উত্তম, পরে বালিখলা যেয়ে হালকা নাস্তা করতে পারেন।
সারাদিন হাওড়ের বুকে ট্রলার দিয়ে ঘোরাঘুরি শেষে ঢাকায় ব্যাক করতে অবশ্যই আপনাকে আসা লাগবে কিশোরগঞ্জ সদরে। ব্যাক করার সময় আপনাকে বাসে করে ঢাকা যাওয়া লাগবে কারন ঢাকার উদ্দেশ্যে শেষ ট্রেন দুপুর ২ঃ৪০ তাই ঘোরাঘুরি করে ফিরতে ফিরতে সাধারণত বিকেল হয়ে যায়। তাই বাসে করে ঢাকা যেতে হলে আপনাকে কিশোরগঞ্জ সদরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে আসতে হবে। বলে রাখা ভালো, ঢাকার উদ্দেশ্যে শেষ বাস ৬ঃ৪৫ এরপর আর বাস পাবেন না। তাই ফেরার দিকে তথা সময়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
সবশেষে, হাওড় আমাদের দেশের সম্পদ। হাওড়ের পানিতে এমন কিছু ফেলবেন না যা হাওড়ের জন্য ক্ষতিকর যা পরিবেশ দূষন করে।
- আমার জেলা কিশোরগঞ্জে আপনাকে স্বাগতম -
হ্যাপি জার্নি......
