প্রতিদিন ডিম খেলেই মিলবে যে কয়টি রোগ থেকে মুক্তি | অসাধারন উপকার

ডিম খাওয়া উপকারিতা
ছবিঃ সংগৃহীত

ডিম খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হলো ডিম। খাদ্যরসিকরা ডিম দিয়ে তৈরি করতে পারেন নানা পদ। ডিম পোচ, ডিম ভাজি, ডিম সেদ্ধ, রান্না অনেকভাবেই খাওয়া যায় এই ডিম। প্রতিদিন অত্যন্ত একটি ডিম খেলেই নিজের অজান্তেই বহু ধরণের রোগ থেকে মিলবে মুক্তি, এমটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু তাই নয়, ডিমের নানা পুষ্টি গুণাগুন শরীরকে রাখবে সতেজ ও শক্তিতে ভরপুর। চীনে প্রায় ৫ লাখ লোকের ওপর এক গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন একটা করে ডিম খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে। তারা বলছেন, ডিম থেকে শারীরিক উপকার পেতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে। তবে একসময় যে বলা হতো বেশি ডিম খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বিজ্ঞানীরা এখন সে মতবাদ পাল্টে ফেলে। 
এখন বেশিরভাগ ডাক্তারই স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, বেশিরভাগ পুষ্টিকর উপাদান প্রাকৃতিকভাবে যেসব খাবারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হল ডিম। যেমন, ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ। এছাড়াও ডিমে আছে লুটেইন ও যিয়াস্যানথিন নাম দুটি প্রয়োজনীয় উপাদান যা বৃদ্ধ বয়সে চোখের ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে নানাবিধ গুণের কারণে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি ডিম রাখুন।

চলুন জেনে নেয়া যাক রোজ একটি ডিম খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে-
  • এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশীকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
  • ডিম-এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ডিমের ক্যারোটিনয়েড, লুটেন ও জিয়েক্সেনথিন চোখের ছানি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
  • ছোট্ট একটি ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি-১২ আমাদের গ্রহণকৃত খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।
  • ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের নাস্তায় একটি ডিম খেলে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম লাগবে। তাই খাওয়াও হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়াতে।
  • একটি ডিমে রয়েছে ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন বা ৭০-৮৫ ক্যালরি। যা রোজকার প্রোটিন এর চাহিদার অনেকটা পূরণ করে।
  • ডিমে রয়েছে আয়রন, জিংক, ফসফরাস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে।
  • একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে একটা ডিম খেলেও আপনার লিপিড প্রোফাইল কোনো প্রভাব পড়বে না।
  • একটি ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত ও মস্তিষ্কের জন্য ভালো।
  • চুল ও নখের মান উন্নত রাখতে নিয়মিত ডিম খান। কারণ ডিমের মধ্যে থাকা সালফার চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
আমরা অনেকে ডায়েট করি কেউ জেনে করি আবার কেউ না জেনে করি। প্রতিদিনের ডায়েটে যে খাদ্য উপাদানটি থাকবেই  সেটি হলো ডিম। সে হোক ভাজা কিংবা সিদ্ধ। খুব কম সময়ে মজাদার খাবার তৈরি  হয় বলে ব্যাচেলর জীবনেও এটি খুব পরিচিত। তবে পুষ্টিবিদদের মতে কিন্তু সিদ্ধ ডিমেরই উপকার বেশি। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ডিমের গুনাগুন-
  • সিদ্ধ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন- ডি। যা হাড়ের গঠন  কে  শক্ত করে। তাই নিয়মিত ডিম  খেলে হাঁড়ের গঠন কে শক্ত ও মজবুত করে।
  • স্ট্রেস কমে সেদ্ধ ডিম স্ব্যাস্হের জন্য বেশ উপকারী।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে ডিমে থাকে প্রায় ৯ ধরনের অ্যামাইনো এসিড। যা মানুষের মস্তিস্কের সেরোটোনিন নামক বিশেষ এক ধরনের হরমোনের ক্ষরন বাড়িয়ে দেয়। আর এই হরমোন টি স্ট্রেস এবং অ্যাংজেইটিং কমিয়ে নিমিষে মন ভালো করে দিতে পারে। তাই নিয়মিত সেদ্ধ ডিম স্ট্রেস কমে।
  • ওজন কমায়,ডিমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে।
  • আর প্রোটিন খেলে ক্ষুদা কম লাগে। যার ফলে শরীরের বাড়তি  ওজন কমে যায়।
  • ডিম বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক। কারন এতে অনেক
  • প্রোটিন রয়েছে। আর এই প্রোটিন জাতীয় খাবার বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি করে।
  • সুন্দর্য্য বৃদ্ধি করে, সেদ্ধ ডিম সৌন্দর্য বর্ধক।কারন এতে থাকা বিটামিন  বি কমপ্লেক্স এবং চুলে সৌন্দর্য বাড়ায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে সালফার এবং ভিটামিন ডি। যা চুল ও নক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া ও সেদ্ধ ডিম খেলে দৃষ্টি শক্তির সমস্যা দুর হয়।
  • চিকিৎসকদের কথায় ডিমে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। সকালের নাস্তায় একটা সেদ্ধ ডিম খেলে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।
  • ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি। যা কিনা শিশুদের দাঁত, হাড় শক্ত করে। গর্ভবতী নারীদেরও নিয়মিত খাওয়া উচিত সেদ্ধ ডিম। তবে ডিমের এই গুণ একমাত্র পাওয়া যাবে সেদ্ধ অবস্থাতেই।
  • কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে সেদ্ধ ডিম। তবে ডিম সেদ্ধা ছাড়া অন্যভাবে খেলে এর উপকারিতা অনেকটা চলে যা।
  • অনেকের ভ্রান্ত ধারণা ডিম খেলে নাকি মেদ বৃদ্ধি হয়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন উলটো কথা। সেদ্ধ ডিম খেলে শরীর থেকে মেদ ঝরে দ্রুত।
  • হঠাৎ করে ক্লান্ত বোধ করছেন বা প্রেসার কমে গেছে? এমন হলে শরীরে দ্রুত এনার্জি আনতে ডিম খান।
তবে উপকারিতার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা সতর্কও করেছেন। তাদের মতে, সেদ্ধ ডিম খাওয়া শরীরের জন্য ভালো হলেও বেশি খাওয়া ভালো না। যারা উচ্চরক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের বেশি সেদ্ধ ডিম খাওয়া যাবে না। আবার ইউরিক অ্যাসিডের প্রবণতা থাকলে, ডিম এড়িয়ে চলাই উচিত।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
Previous Post Next Post