শীতকালে আমাদের জীবনযাত্রায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে শীতের রুক্ষতা আর শুষ্কতা। সামান্য একটু সচেতন হলেই খুব সহজেই ত্বকের যত্ন নিলে আর সচেতনতাই কেবল পারে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি এবং এই সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। শীতের শুষ্ক ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে বেড়ে যাওয়া ধুলোবালির ফলে আমাদের ত্বক হয়ে যায় খসখসে আর মলিন। যার ফলে দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা; যেমন ত্বক ফেটে যাওয়া, ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি। তাই শীতকালে ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা। শীতে ত্বকের কিছু সাধারণ সমস্যা আর তা থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক-
| শীতকালে ত্বকের যত্ন | img src: softeit.com |
- গোসলের পর এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন।
- দিনে বা রাতে মাঝে মাঝে মুখে পানির ঝাপটা দিলে ভালো হয় ত্বকের আদ্রতা বজায়ে। এর ফলে শীতকালে ত্বক সহজে শুষ্ক কখনও হবে না।
- ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও যাবার আগে শীতকালে অন্তত কিছুক্ষন আগে সানস্ক্রিন ইউজ করুন যেগুলো এসপিএফ ১৫-৩০ মান।
- শীতকালে অনেকেরই খুশকির সমস্যা দেখা দেয় বা বেড়ে যায়। তাই মাথার স্কাল্প পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
- শীতকালে বাইরে বের হওয়ার সময় কখনই ভেজা চুলে বের হওয়া ঠিক নয়। কারন এর ফলে চুল ভেঙে যেতে পারে সহজে সেই সাথে চুলের আদ্রতা নষ্ট হয়।
- শীতে ত্বকে মরা চামড়া জমে বেশি। নারকেল তেল কিংবা দুধের সঙ্গে কফি অথবা ওট মিশিয়ে বাড়িতে স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন এই ক্রাব ত্বকে ঘষে মরা চামড়া দূর করুন।
- ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত অয়েল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেলের পাশাপাশি এলোভেরা জেলের সাহায্যে ও ম্যাসাজ করতে পারেন ত্বক। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং ত্বক নরম হবে।
- শীতকালে অনেকে ঠোঁটফাটা সমস্যায় বেশি ভুগে। এই সমস্যা রোধের জন্য অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণের ব্যবহার বেশ কার্যকর। এছাড়া ঠোঁটে ভালো মানের লিপজেল অথবা ভ্যাসলিন কিংবা চ্যাপস্টিক ইউজ করতে পারেন।
- শীতকালে আমরা অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করি বা হাতমুখ ধুই কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে গোসল বা হাতমুখ ধোয়ার সময় পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। কারন অতিরিক্ত গরম পানি আমাদের মুখের এবং হাতের ত্বকসহ সাড়া শরীরের ফলিকলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলে।
- শীতে ত্বকের যত্নে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডোসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার কিনুন। এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করবে।প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে,ত্বক পরিষ্কার করে, মশ্চেরাইজার দিয়ে ম্যাসেজ করে নিন। ত্বক থাকবে নরম, আর্দ্র এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল।
- শীতে ধুলাবালির প্রকোপ বেড়ে যায় তাই ত্বকে আটকে থাকা ময়লা দূর করতে, রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করবেন। ক্লিনজার হিসাবে অবশ্যই কাচা দুধ অথবা মিল্ক-বেসড ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া বেসনের সঙ্গে দুধ মেশালে চমৎকার এক ধরনের প্রাকৃতিক ক্লিনজার তৈরি হয়।
- ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে এ সময় হাইড্রেটিং ফেস মাক্স ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ফেস মাক্স ব্যবহার করবেন। কলার পেস্ট, ১ টেবিল চামচ মধু, দই এবং কয়েক ফোটা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে বানিয়ে নিন ফেস পেক। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন।শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
- শীতকালে ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় র্যাশ ও চুলকানি দেখা দেয়। তাই আক্রান্ত স্থান সবসময় তৈলাক্ত রাখতে হবে। গোসলের পরপরই পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় ময়েশ্চারাইজার, গ্লিসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার থেকে যেন বিরত থাকা হয়। পাশাপাশি তৈলাক্ত ত্বক যাদের তাদের জন্য অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করাউ উত্তম।
- শীতকালে ত্বকের শুষ্কতার ফলেই সোরাইসিস কিংবা ড্রাই অ্যাকজিমা এর ব্যপারগুলো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে ফলে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেয় যা বিব্রতকর অবস্থাতেও ফেলে অনেককে। এ সমস্যা থেকে সমাধান পেতে বিভিন্ন তৈলাক্ত ধরণের ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।
- শীতে ত্বকের জন্য খাদ্য তালিকায় উপকারী এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন যেমন সি, এ ইত্যাদির উপস্থিতি এবং প্রতিদিনের খাবার তালিকায় শীতকালীন নানা শাক সবজি খাওয়ার অভ্যাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্বকের যত্নে চাই সচেতনতা। এসব সমস্যার সমাধান হতে পারে খুব সহজেই।
শীতকালে শীতের শুষ্কতা রুক্ষতা অনেকসময় জীবনযাত্রায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে আমাদের। কিন্তু কেবলমাত্র একটু বাড়তি সচেতনতা আর ত্বকের ঘরোয়া যত্নে খুব সহজেই এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মূল কথা হলো, শীতকালে ত্বকের যত্ন নিতে একটু বাড়তি প্রস্ততি ছাড়া কোন বিকল্প উপায় নেই। শীতকালে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ত্বকের ময়েশ্চারাইজার আর কোমলতার ভারসাম্য ঠিক রাখা। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য গরমকালের চেয়ে ছোট হয়ে আসে, বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে কমে তাপমাত্রাও ফলে কমে যায় ত্বকের গ্লো। সেজন্য নিজের ত্বকের যত্ন নিজেকেই নিতে হবে নতুবা ফাটা ত্বক বা বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে আপনাকে শীত কাটাতে হবে।